রুনা লায়লার সঙ্গীত জীবনের ৫০ বছর ফুর্তিতে তার সম্পর্কে জানুন

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

1 year ago | Date : September 23, 2016 | Category : Bangla,Dallywood | Comment : Comments Off on রুনা লায়লার সঙ্গীত জীবনের ৫০ বছর ফুর্তিতে তার সম্পর্কে জানুন |

সঙ্গীতের জীবন্ত কিংবদন্তীর তারকা রুনা লায়লার শৈশব কৈশর এবং যৌবনের দিনগুলো সম্পর্কে আমরা আরেকটু যেনে দেখি জীবনটাকে এভাবে মিলাতে পারি কিনা! মঞ্চে বসে রুনা লায়লার গান শুনলে বা দেখলে তার গানের প্রতি মুগ্ধ হবে না এমন লোক নেই তার আবেগ সৃষ্টি হবেই। তার গানের সুর, শরীরের ঝংকার, রূপের বাহার, ঠোটে যৌবনের চোয়া ইত্যাদি সব মিলিয়ে মহুর্তে দর্শকদের মন জয় করে। তার গানে আমাদের রূপ-রস। গন্ধ- স্পর্শের জগতেই তীব্রভাবে আকৃষ্ট করে। এক সময় রুনার গানকে বলা হত শরীরী সংগীত অর্থাৎ তার গান শুধু শুনার জন্য নয় দেখারও বিষয়।

রুনা লায়লা।runa laila

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কন্ঠশিল্পি রুনা লায়লার ১৭ নভেম্বর রোজ মঙ্গল বার ৬৩ বছর পূর্ন হয়। পিতা এমদাদ আলী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ পাস করে সেখানেই চাকরি শুরু করেন। তার পিত্রী নিবাস হচ্ছে রাজশাহী। রুনার মা অমিতা সেন ও একজন গায়িকা। অমিতা সেন হচ্ছে চট্রগ্রামের বিশিষ্ট জমিদার পরিবারের মেয়ে। অমিতা সেনের গানে আকৃষ্ট করে এমদাদ আলীকে। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে এই অমিতা সেন, আমিনা লায়লা হয়ে এলেন এমদাদ আলীর ঘরে। তাদের দাম্পত্যজীবনের এক বছর পর ঘর আলো করে এলো দীনা লায়লা। দিনা লায়লার মধ্যে ও দেখা গেল পিতা মাতার সংগীতানুরাগীত্ব। সংগীতের প্রতি আকৃষ্টতা দেখে তার জন্য ওস্তাদও রাখা হল। হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান করে বিচিত্রানুষ্ঠানের সকল দর্শকদের বিস্মিত করে দেন দিনা লায়লা। যখন তার বয়স মাত্র সাড়ে চার বছর। ১৯৫২ সালে তাদের ঘর আলোকিত করে তাদের ঘরে আসে আরেন মেয়ে রুনা লায়লা। ১৯৫৫ সালে রুনার আড়াই বছর বয়সে তার বাবা বদলি হয়ে যান পাকিস্তানের মুলতানে। দিনা লায়লার সঙ্গিত চর্চা তখন পূর্ন গতিতে চলছে। শিশু রুনা লায়ালা তার বড় বোনের পাশে বসে থাকতেন আর সাথে গান গাইতে চেষ্টা করতেন।

 

runa

দুই বছর পর বদলী হয়ে করাচি এসে দিনা লায়লার সঙ্গীত চর্চার দায়িত্ব দিলেন ওস্তাদ আব্দুল কাদের ভূপালীকে। তখনো রুনা লায়লাকে কেউ হিসাবে ধরেননা। বাবার ইচ্ছা ছিল রুনাকে নৃত শিখাবে তাই তিনি নাচের স্কুলে ভর্তি করে দেন রুনাকে। সংগীতে পিতৃসূত্রে রুনা লায়লার উত্তরাধিকার বেশ সমৃদ্ধ। আত্মীয়স্বজনের মধ্যেও ছিল সহজ সাঙ্গীতিক পরিবেশ । খ্যাতিমান দুজন নায়িকা আঞ্জুমান আরা এবং জিনাত রেহানা এরা দুজন ছিলেন এমদাদ আলীর ভাগিনী ও নাতিনী। জিনাত রেহানার মা জেবুন্নেসা জামান ও ছিলেন একজন গীতিকার। অর্থাৎ রুনা লায়লার চার পাশের সবাই ছিল শিল্পী। দিনা লায়লার ওস্তাদ আব্দুল কাদেরও ছিলেন অসাধারন। ছাত্র ছাত্রীদেরকে তিনি দিতে জানতেন। যা রুনার সংঙ্গীত ভিত্তি রচনার জন্য খুবই উপকারী। দীনাকে গান শেখাতেন ওস্তাদ আর খেয়াল করতেন বড় বোনের পাশে নিশ্চুপ বসে থাকা ছোট বোন রুনা। কৌতূহল আর আগ্রহ তার চোখে মুখে। ঐটুকু মেয়ে কিন্তু অনুকরণের ক্ষমতা বড় বিস্ময়ের। আর দীনার গান শেখানোর সময় তাকে দূরে সরিয়ে রাখা যায় না। ওস্তাদ এ স্বীকারোক্তির পাশাপাশি রুনার বাবাকে বললেন, এমদাদ সাহেব, আপনার এ মেয়েটিকেও আমি গান শেখাবো। এর পর একদিন গান রেকর্ড করল ১২ বছরের রুনার। এভাবে লাহোরে জুগনু ছবিতে মুন্নি মেরে গানের মাধ্যমে প্লেব্যাকে পা রাখলেন রুনা। গানটি ছিল তার বয়সীদের জন্য। এবার আসলেন সংগীত পরিচালক নাশাদ। শিশু শিল্পির জন্য নয় হাম দানো ছবির নায়িকার গানের জন্য। শৈশবের বৃত্ত পার করে অগ্রসর হলেন রুনা লায়লা। এর পর প্রায় ১০ বছর ধরে পাকিস্তানি গানে রুনা ছিলেন এক লাস্যময়ী ঝংকার। তিনি অপরিহার্য হয়ে উঠলেন ছায়াছবির গানের জন্য। তার এই জয়যাত্রা শুরু হতে লাগল ১৯৬৮ সাল থেকে। কমান্ডার ছবির জানে মান ইতনা বাতা দো গানের জন্য রুনা লায়লা পেলেন দুইটি পুরস্কার- গ্র্যাজুয়েট ও নিগার। ১৯৭০ সালে পেলেন ৩টি পুরস্কার- গ্র্যাজুয়েট, নিগার ও ফিল্ম ক্রিটিকস এ্যাওয়ার্ড। আঞ্জুমান ছবির গানের জন্য এই পুরস্কার তিনি পান। এত গান আর রের্কডের পরেও তিনি ছাড়েননি শিক্ষা জীবন। ১৯৬৮ সালে তিনি এসএসসি পরিক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তির্ণ হন, এবং ১৯৭০ সালে এইচ এসসি পরিক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে অত্তির্ণ হন। ১৯৭০ সালের দিকে তার গানের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় এক হাজারেরও বেশি। তার আঞ্চলিক ভাষায়ও রয়েছে কিছু গান। এছাড়াও রয়েছে এগারোটি ভাষায় তার গাওয়া গান। এর পর বের হয় পরপর ছয়টি এলপি। সবগুলোই অসম্ভব হিট। প্রথম দ্য টিন এজ প্রোডিজি ১২ টি ছায়াছবির গান নিয়ে। এর পরের ভলিউম রুনা লায়নাতেও ১২টি ছায়া ছবির গান। আর তৃতীয়টি সিনিসিয়ারলি এয়োর্স গোলাম হাদির দশটি গান নিয়ে।

runa laila

১৯৭০ সালের ২ আগস্ট দীনা লায়লার বিয়ে হয় মখদুম মোহাম্মদ আমীনের(এমএনএ) সাথে।

দীনার শ্বশুরও ছিলেন একজন এমএলএ। তিনি হালার পীরসাহেব নামে সমাধিক খ্যাত। তার শ্বশুরের দশটি লিখিত গান এবং সুরারোপিত ১০টি গান নিয়ে লায়লার শেষ এলপি সংস অব তালিব-উল-মাওলা। দিনা লায়লা ১৯৭৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর পর রুনা লায়লা ৬টি কনসার্ট করে এর সমুদয় টাকা শিশু হাসপাতালকে ক্যান্সার ওয়ার্ড স্থাপনের জন্য দান করেন।

রুনা লায়লার সাড়া জাগানো প্রোগ্রাম বাজমে লায়লা শুরু হয় ১৯৭২ সালে করাচি টেলিভিশনে। এতে তিনি ব্যপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এর পর থেকে তার সংগীত পরিবেশনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। এরপর থেকে তিনি সংগীতকে নিয়ে আসেন শরীরে এবং শরীরকে নিয়ে যান সংগীতে। অর্থাৎ গানের তালে তালে তিনি অঙ্গ ভঙ্গিও করেন। এবং শুরু হয় পোশাকের মাধ্যমে নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডও। প্রত্যেক মানুষেরই স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে।

১৯৭৪ সালে পাকিস্তানে চুড়ান্ত প্রতিষ্ঠাকে ত্যাগ করে তিনি স্বদেশে ফিরে আসেন। মহুর্তে যেন শোকসংবাদে বিহবল হল পাকিস্তান।

১৯৭৪ সালের ৫ জানুয়ারি ‘ডন’ পত্রিকা লিখলো ৩ কলামব্যাপী শোক ‘এ্যান্ড টু এ গ্লোরিয়াস চ্যাপ্টার’ শিরোনামে। ১৯৭৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ‌’মর্নিং নিউজ’ লিখলো অর্ধপৃষ্ঠাব্যাপী নিবন্ধ ‘দ্য বিগিনিং অব নস্টালাজিয়া’। ১০ জানুয়ারি ১৯৭৪ এর ‘লিডার’ এ পূর্নপৃষ্ঠা নিবন্ধে প্রথমেই প্রশ্ন রাখা হল- পাকিস্তানের ছায়াছবি এবং টেলিভিশন থেকে রুনা লায়লার শূন্যতা কি দূর করা সম্ভব???

কিন্তু খ্যাতি যশ প্রতিষ্ঠার চেয়ে দেশ অনেক বড় তারই এক উদহরন দিয়েছেন রুনা লায়লা। তার চেতনায় দেশপ্রেম এক উজ্জ্বল অস্তিত্ব। বাংলাদেশী ছবিতে তার প্রথম গাওয়া গান হল গাজী মাজহারুল আনোয়াররের লেখা এবং সুবল দাসের সুরে গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে। পাকিস্তানী ছায়াছবির গানে ও টেলিভিশনে রুনা লায়লা হয়ে উঠেছিলেন এক বিস্ময়। কি নবীন কি প্রবীন সকল সংগীত পরিচালকই তার কন্ঠসম্প ব্যবহারের জন্য উৎসাহী ছিল। গান পরিবেশনে তার ভঙ্গি এবং গানের তালে নৃত্য তার সাথে আবারা ফ্যাশন সবকিছু মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেলেন এ্যাল্টিমেট ডিভা। ঢাকা, দিল্লি, বোম্বে, এবং লন্ডনের মঞ্চে এসে দাড়ান তিনি। তিনি যখন মাইকের সামনে দাড়ান ঠোটে যৌবনের উজ্জ্বল হাসি, আর মহুর্তে সমবেত মানুষের মধ্যে হিল্লোল হয়ে উঠে আবেগের। এ যেন এক অপার বিস্ময়ে সবাইকে জয় করে নেন তিনি। উপমহাদেশ কি উপমহাদেশের বাহিরে কোথায়ও এর কমতি নেই। এরপর থেকে রুনা লায়না সম্পর্কে আমরা সবাই কিছু না কিছু জানি। গত চার দশকে রুনা লায়লা হয়ে উঠেছিলেন দেশের সংগীতাণজঙ্গনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী। এতে তিনি অনেক সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১৪ সালে পূর্ন হল তার প্লেব্যাকের ৫০ বছর।

এখনো তিনি মঞ্চে এক সাথে নেছে গেয়ে মন জয় করে নিচ্ছেন সকল দর্শকদের। দেশ বিদেশে নামি দামি অনুষ্ঠানে তার ডাক। তার গানের সুর, শরীরের ঝংকার, রূপের বাহার, ঠোটে যৌবনের চোয়া ইত্যাদি সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন এক সংগীত ভ্রমনের পরিপূর্ণ রোপ। চোখ বন্ধ করে তার গান শুনুন। দেখবেন দেখার বাইরেও রুনার গানে অশ্রুত অনেক কিছু রয়ে গেছে। তার কণ্ঠের কারুকাজ নিয়ে যাবে সুদূর কোনো দেশে। আপনার মগ্নতা ক্ষনে ক্ষনে রং বদলাবে। নবীন রঙে যেগে উঠবেন আপনি।

পাঁচ দশকের সংগীত জীবনে লোকজ, পপ, রক, গজল, আধুনিক- সব ধরনের গানই গেয়েছেন রুনা লায়লা। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজি সহ মোট ১৮ টি ভাষার কন্ঠে গান গেয়েছিলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সুরকার নিসার বাজমির সুরে একদিনে ১০টি করে তিন দিনে ৩০ টি গানে গেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখান রুনা লায়লা। এই পর্যন্ত তার গাওয়া গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি।

রুনা লায়লার শৈশব কৈশর ও যৌবনের যে দিকগুলো সে সময়ের পত্রিকার পাতায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয় । সেই সব বর্ণাট্য ছবি দেখেও বোঝা যায় সঙ্গীতে নিজের উপস্থিতিকে নানা ভঙ্গিমায় কতটা মোহনীয় করে তুলেছেন রুনা লায়লা।

সংসার জীবন

রুনা লায়নায় এই পর্যন্ত তিনটি বিয়ে হয়েছে। প্রথম স্বামী হচ্ছে খাজা জাভেদ কাউসার, এখানে তিনি বেশি দিন থাকতে পারেন নি। রুনা লায়লা দ্বিতীয় বিয়ে করেন সুইজারল্যান্ডের নাগরিক রন ড্যানিয়েলকে। তার এই সংসারও ভেঙ্গে যায়। বর্তমানে তার জীবনে আছে চিত্রনায়ক আলম

runa laila and alamgir

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags: ,

Comments are closed.


↑ Top