সেদিন বড় বোন লতা মঙ্গেশকর আর মুখ ফিরিয়ে রাখেননি

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

1 year ago | Date : October 1, 2016 | Category : Bangla,Bollywood | Comment : Comments Off on সেদিন বড় বোন লতা মঙ্গেশকর আর মুখ ফিরিয়ে রাখেননি |

lata লতা মঙ্গেশকর আর আশা ভোসলের সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথাই শোনা যায়। বিভিন্ন সময়ে নানান বিষয়ে গল্প গুজব করা হত এই দুই বোন কে নিয়ে। এই কতটুকু সত্য! ঈদের ছুটিতে প্রথম আলোর বিনোদনে সঙ্গে আবার নতুন করে জেনেনিন চিরদিনের লতা-আশাকে। বিভিন্ন বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত লেখাটি ই কিংবদন্তিদের জীবনী থেকে তৈরী।
পিতৃহীন পথচলা…
জমান লতা আশার বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর মাত্র ৪২ বছর বয়সে চলে যান না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুর পর সংসার চলবে এমন কিছু তিনি রেখে যাননি। মা সুধামতী দিশেহারা পাচ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কে ধরবে এত বড় সংসারের হাল।? সংসারের এই দ্বায়িত্বটা নিতে হল লতা মেয়েকে তখন তার বয়স ১২ বছর।
লতার স্কুল যাওয়া বন্ধ…
লতা মঙ্গেলকর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে গেলে কিছুই করতে পারেননি। কারন চার বছরের ছোট বোন আশা দিদি ছাড়া কিছুই বুঝতেননা। একই ভাবে দিদিও কোন দিকে যেতেন না বোন ছাড়া। স্কুলে যাওয়ার সময়ও সাথে নিয়ে যেতেন। এক দিন স্কুল কর্তিপক্ষ জানিয়ে দিল বোনকে নিয়ে স্কুলে আসা যাবেনা। সেও ঠিক করল তিনি আর স্কুলে যাবেন না। বাবা মৃত্যুর সাত দিন পরেই তিনি চলে গেলেন প্যাহলি মঙ্গলাগাও ছবির শুটিংয়ে। মারাঠি ছবিতে গান আর অভিনয় করে শুরু হয় তার কর্ম জীবন।
আশাও পরিবারের প্রতি নজর দেন…lata-mangeshkar-and-asha-bhosle
পরিবার রক্ষার লড়াইয়ে নামলেন লতা, সাথে সাথে তার বোনও কিছু করতে চায়। দেখা গেল ১০ বছর বয়সে তিনি মারঠি ছবিতে তার রেকর্ড করা গান চালা চালা নভ বালা গানটি। এর পাচ বছর পর হংসরাজ বেহলের চুনারিয়া ছবির মাধ্যমে তিনি হিন্দি গানে অভিষেক। এভাবে অনেক দিন চলে গেল আশা তখন অদম্য কিশোরী। না বুঝার বয়স প্রেমে খাচ্ছেন হাবুডুবু। তার ছেয়ে ১৫ বছরের বড় গনপত রাও ভোসলেকে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেয়েকরে পেলেন তিনি। ঐ পালিয়ে বিয়ে করা প্রযন্তই মিল প্রেম সাগর, পিয়াসা সাওন মার্কা কাহিনের সঙ্গে। তার স্বামী তার ভালো আসার হননি বরং তার আসা ভঙ্গের কারন হয়েছে।
দুই বোনের দূরত্ব…
আশা গনপাত কে বিয়ে করার কারনে লতা তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেন। চার বছরের ছোট যে বোনের জন্য তার লেখা পড়া হল না সে বোন তাকে না জানিয়ে পালিয়ে বিয়ে করতে পারল। গনপাতকে আশার স্বামি হিসাবেও মানতে পারেননি লতা। ম্যানেজারের হাত ধরে পালিয়ে যাবে এমন কথা ভাবতেও পারেন নি লতা। পরিবারের জন্য কত কষ্টই না করেছেন তিনি হেটে হেটে ট্রেন স্টেশনে যেতেন আবার সেখান থেকে হেটে হেটে ফিরতেন ৫০ পয়সা করে বাচিয়ে এক টাকাদিয়ে খাবার কিনে আনতেন। আশাতো আমার এবং পরিবারের কারো কথাই ভাবলনা নিজের স্বার্থটাকে বড় করে দেখে বিয়ে করে নিল। একই সাথে কাজ করতেন কিন্তু অভিমানের কারনে কথা বলতেন না। মায়ের মত আদর স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে যে বোনকে বড় করলেন তিনি সিরি থেকে পরে মাথা পেটে রক্ত ঝরছে তবুও আদরের বোনকে বুকে ধরে রাখছেন। সে বোনের এমন আচরনে তিনি খুব কষ্ট পেয়েছেন। এর মধ্যে অনেক দিন এভাবে কেটে গেল আশা এখন হেমন্ত আর বর্ষার মা। লতা তার অভিমান আর রাখতে পারলেন না। তার পাশে গিয়ে দাড়ালেন তিনি। আসলে নিয়তি লেখা ছিল অন্যভাবে। তাদেরকে বেশি দিন দূরে থাকতে দেয়নি নিয়তি।
বয়সে অনেক বড় রক্ষনশীল পরিবারের ছেলে গনপাতের সাথে একদমই মিলতনা।
ভূল সব ভূল করেছি…
বিয়েরপর পারিবারের ঝামেলা আর অনুশাষনের চাপে পড়ে আশা বুঝতে পারলেন কম বয়সে নিজের পরিবার নিজে নির্বাচন করতে গিয়েও বড় ভূল করে ফেলেছেন তিনি। মাঝে মাঝে খুব রাগ হতেন। এমনকি রেকডিং শেষ করে বাড়ি ফিরতে রাত হলে দরজা খুলতেননা বাহিরেই কাটাতে হত সারারাত। এমনি একদিন যখন তার পেটে সন্তান তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হল। দুঃখে কষ্টে স্বামির কাছে আর ফিরে যান নি। সন্তান দের কে নিয়ে এক কাপরেই ফিরে এলেন মায়ের কাছে সেই দিন দিদি আর মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারেননি।
একত্রে পথ চলা…
আবার তারা এক ঘরে থাকতে শুরু করলেন। পেশাগত জীবনে তেমন কোন সুবিদা পাননি আশা। হিন্দি ছবির গানে তখন লতা, নূর জাহান, গীতা দত্তদের দাপট ছিল। সব ছবিতে গাওয়ার পর যে সব গান থাকত, সে গুলো দেওয়া হত আশাকে। অথচ কন্ঠমাধুর্য কারো চেয়ে কম নয়। আশা তার পন্ডিতের কথায় বানিজ্যিক গান ছেড়ে ক্যাসিক্যাল গাওয়া শুরু করলেন এবং এতে তিনি সফল হলেন। এভাবেই তৈরী হতে থাকল দুই বোনের আলাদা ইতিহাস।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

tags:

Comments are closed.


↑ Top