কিংবদন্তী নায়িকা ববিতা

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

1 year ago | Date : September 24, 2016 | Category : Bangla,Dallywood | Comment : Comments Off on কিংবদন্তী নায়িকা ববিতা |

bobitaবাংলা দেশের একজন নাম করা খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হচ্ছে ববিতা। তার আসল নাম ফরিদা আখতার পপি। ববিতার আদি নিবাস যশোর। এই প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী ১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই তিনি বাগের হাটে জম্মগ্রহণ করেন। ঢাকার গেন্ডারিয়াতে তিনি বড় হন। ববিতার মা হচ্ছেন একজন ডাক্তার তাই তার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে ডাক্তার বানাবে। মানুষের সবস্বপ্নই পূরন হয়না এটাই বাস্তবতা। কবিতার মায়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের সংসার নামক ছবির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন। ছবিতে রাজ্জাক এবং সুচন্দার মেয়ের চিত্রে অভিনয় করেন। এর পর জহির রায়হানের আরেকটি ছবি জ্বলন্ত সুরুজ কি নিচে এই ছবিতে তার নাম পরিবর্তন হয়ে ববিতা নাম ধারন করে। ১৯৬৯ সালের শেষ প্রযন্ত তিনি নায়িকা হিসাবে ছবিতে অভিনয় করেন। তিনি ৭০ এর দশকে তার অভিনয়ের ভাব ভঙ্গি দেয়ে চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ অভিনেন্ত্রী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি চলচ্চিত্রের ৭০ এবং ৮০ দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক ভাবে চলচ্চিত্রে প্রকাশিত হন সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত ছবির মাধ্যমে। ববিতা ২০০ এর বেশি ছবিতে অভিনয় করেন। তার অভিনিত ব্যাবসা সফল এবং শিল্পসম্মত ছবির মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে বসুন্ধরা, অনন্ত প্রেম, পোকামাকড়ের ঘর বসতি, সুন্দরী, ডুমুরের ফুল, বাদী থেকে বেগম, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী,আলোর মিছিল, নয়ন মণি, রামের সুমতি, গোলাপী এখন ট্রেনে, আবার তোরা মানুষ হও ইত্যাদি। সব ধরনের ছবিতেই তিনি সাবলীল ভাবে অভিনয় করতেন অর্থাৎ গ্রাম, শহর, রাজ নৈতিক সামাজিক এবং প্রেমের যেকোন ছবিই হোক না কেন তিনি নিজেকে মেসিং করতেন। স্বাধীনতার পর তিনি সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেন বিশেষ করে কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের কাছে। সত্তরের প্রথমার্ধে রুচিশীল সামাজিক ছবি মানেই ববিতা। তিনি সুপার হিট হন নজরুল ইসলামের স্বরলিপি ছবির মাধ্যমে। নায়িকা হিসাবে তা চলাফেরা ছিল লক্ষণীয়। তার অভিনয়ের দক্ষতা নৈপুণতা,ব্যক্তিত্বতা, নৃত্য কৌশলতা সবকিছুদিয়েই তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং নেপালের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত কয়েকটি ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। কন্যা তার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম। বেশ কয়েকটি ছবি প্রযোজনা করেন তিনি। তিনি ২০০২ সালে হাছন রাজা ছবিতে পার্শ্ব ছবিতে অভিনয় করেন। অভিনয়ে তার দক্ষতা এবং নৈপুণতার কারনে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। বর্তমানের ছবিগুলোতে মা এবং ভাবির চরিত্রে অভিনয় করেন। ববিতার ছেলে অনিক কানাডায় পড়ালেখা করে। পরপর তিন বছর ববিতা জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত ছবিতে অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বেঙ্গল ফিল্ম এসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরস্কার পান। ১৯৭৩ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে অশনি সংকেত ছবিটি গোল্ডেন বেয়ার পুরুস্কার লাভ করে। সাথে সাথে ববিতাও আর্ন্তজাতিক ভাবে পরিচিতি লাভ করে। জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী পুরস্কার লাভ করেন। এইজন্য তাকে পুরস্কার কন্যা বলা হত। তিনি অনেক বার বাংলা দেশের প্রতিনিধি হয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহন করেন। বর্তমানে ববিতা অভিনয়ের পাশা পাশি সমাজ সেবায়ও অংশ গ্রহন করেন। নারীর উপর এসিড নিক্ষেপ এবং নারী অধিকারের জন্য কর্মসূচি গ্রহন করেন। নারী ও শিশুদের অধিকারের জন্য বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করেন। এছাড়াও লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ২০১১ সাল থেকে চিকিৎসা শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংগঠনের শুভেচ্ছা দূত হিসাবে কাজ করেন।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

Comments are closed.


↑ Top