লাখো ভক্তের প্রিয় নায়কের জম্মদিনে

Written by: moonlight


About : This author may not interusted to share anything with others

1 year ago | Date : October 12, 2016 | Category : Bangla,Dallywood | Comment : Comments Off on লাখো ভক্তের প্রিয় নায়কের জম্মদিনে |

লাখো কোটি ভক্তের হৃদয়ে গাথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ক্ষণজম্মা নায়ক শালমান শাহের ৪৫ তম জম্ম বার্ষিকী। বাংঙ্গালীর জনপ্রিয় এই নায়কের জম্মদিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (বিভিন্ন সংগঠন এবং সংবাদপত্র ও টেলিভিশন) বিভিন্ন আয়োজন করে থাকেন। তার জম্ম দিনে উল্লেখ্যযোগ আয়োজন করে সালমান শাহ স্মৃতি পরিষদ। ২০০৩ সাল থেকে থেকে এই সংগঠনটি ধারাবাহিক ভাবে সালমান শাহের জম্ম এবং মৃত্যু বার্ষিকী পালন করে আসছে। সালমান শাহ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি এস এম শফি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সালমান শাহের ৪৫তম জন্মবার্ষিকী ২০১৬. উদযাপনের জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর, এফডিসি চত্বর ও জসিম ফ্লোরে দেশের সকল তারকা, পরিচালক, প্রযোজক, সাংবাদিক এবং বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে দিনব্যাপী সালমান শাহ উত্সব ২০১৬ আয়োজন করেছিলো সালমান শাহ স্মৃতি পরিষদ। দৈনিক ইত্তেফাক মিডিয়া পার্টনার হিসাবে ছিলো এই আয়োজনে।

salman-shah

সালমান ছিল প্রথম শ্রেনীর নায়ক এবং প্রথম শ্রেনীর খল নায়ক হচ্ছে মিশা সওদাগর। বর্তমানে আমাদের চারপাশে অনেক নায়ক আছে যাদের হয়ত সবাই তারকা হিসেবে গ্রহন করে মানুষ হিসাবে তেমনটা নয়। চলচ্চিত্রে অভিনেতা রাজ্জাকের পর একমাত্র সালমানই ছিল উন্নত অভিনেতা ও দক্ষ নায়ক এবং প্রকৃত নায়ক। এই তিনটি গুন খুব কম মানুষের মধ্যেই পাওয়া যায়। সালমান শাহের সবছেয়ে বড় যে গুন ছিল তা হচ্ছে সকল স্তরের মানুষের মন জয় করতে পারা। যার মৃত্যু শোক সইতে না পেরে প্রাণ দেয় ওর ১২জন ভক্ত। শুধুমাত্র অভিনয় দিয়ে অল্প সময়ে এরকম ভক্ত তৈরি করার ক্ষমতা কারও ছিল কিংবা আছে বলে আমার মনে হয় না। সালমানের শাহের এটা এক অসাধারণ ক্ষমতা। তার এভাবে চলে যাওয়া কখনোই মেনে নেয়ার নয়। ও বেঁচে থাকলে হয়তো আমাদের চলচ্চিত্রের যে পতন সেটা এতো তাড়াতাড়ি হতো না। ওর সাথে কাজ করেছি, কাজের সুবাধে দেখা হয়েছে অভিনয়ের বাইরের মানুষ হিসেবে।

salman-shah

চলচিত্রের খ্যাতিমান নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরেই চলচ্চিত্র জগতে আগমন করেন সালমাম শাহ। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে চলে আসেন। এতে সালমান শাহের বিপরীতে অভিনয় করেন ঐ সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান সালমান শাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন আজ চলচ্চিত্রের খারাপ সময় যাচ্ছে। তার শূন্যতা আমরা আজও অনুভব করছি। ও থাকলে হয়তো চলচ্চিত্রের এমন অবস্থা হতো না। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের যখন খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছিল তখন আমার ছবির মাধ্যমেই সালমান শাহর চলচ্চিত্রের আগমন হয়। সিনেমা হল বিমুখ মানুষেরা হলমুখী হওয়া শুরু করেন সালমান শাহর ছবির মাধ্যমে। একে একে তার সব ছবিই হিট হতে থাকে। সালমান শাহর ছবি মানেই ছিলো ব্যবসা সফল, ভালো ছবি এবং সুস্থ্ ছবি। দর্শকেরাও শালমান শাহের ছবির কথা শুনলেই হল মুখি হত। এক জন নায়কের সকল ছবি জনপ্রিয় এবং ব্যাবসা সফল হওয়া এক এক সুভাগ্যের ব্যপার। আর এই সুভাগ্য অর্জন করতে পেরেছেন সালমান শাহ। কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধা প্রযন্ত সবাই তার ছবিতে আকৃষ্ট ছিল। সালমানের সকল ছবিই দর্শক প্রিয়।

মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ার…।

salman-moushumi

সালমান শাহ মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে যে সব খ্যাতিমান ও গুণী পরিচালকের ছবিতে অভিনয় করেছেন নিচে তাদের নাম সহ ছবি উল্লেখ্য করা হলঃ- তার অভিনিত প্রথম ছবি এর পরিচালক ছিলেন খ্যাতিমান পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান, ছবিটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন মৌসুমী। শিবলী সাদিক পরিচালিত (অন্তরে অন্তরে, আনন্দ অশ্রু, মায়ের অধিকার), জহিরুল হক (তুমি আমার, সুজন সখী), গাজী মাজহারুল আনোয়ার (স্নেহ), শফি বিক্রমপুরী (দেনমোহর), দিলীপ সোম (মহামিলন), এম এম সরকার (চাওয়া থেকে পাওয়া), রেজা হাসমত( প্রেমপিয়াসী), বাদল খন্দকার (স্বপ্নের পৃথিবী), হাফিজউদ্দিন (আঞ্জুমান)। দেলোয়ার হোসেন ঝান্টু পরিচালিত (কন্যা দান), মালেক আফসারী পরিচালিত (এই ঘর এই সংসার)। শাহ আলম কিরন পরিচালিত (বিচার হবে), জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত (জীবন সংসার), কাজী মোরশেদ পরিচালিত (শুধু তুমি), আব্দুল খালেক (স্বপ্নের ঠিকান), ছটকু আহমেদ (সত্যের মৃত্যু নেই), বাদল খন্দকার (স্বপ্নের পৃথিবী), জীবন রহমান (প্রেমযুদ্ধ), মোহাম্মদ হান্নান (বিক্ষোভ), মোহাম্মদ হোসেন (প্রিয়জন), মতিন রহমান (তোমাকে চাই), তমিজ উদ্দিন রিজভী (আশা ভালোবাসা), এবং পরিচালক নাসির খান পরিচালিত (স্বপ্নের নায়ক)।

সালমান শাহ মৃত্যু বরন করলেও আজীবন বেছে থাকবেন লাখো কোটি ভক্তে হৃদয়ে।

লিখাটি আপনার কালেকশানে রাখার জন্য আপনার ফেজবুকে শেয়ার দিন

Comments are closed.


↑ Top